ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৌলবাদের কবর রচনা করবো: রেজাউল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ২১, ২০২০
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৌলবাদের কবর রচনা করবো: রেজাউল বক্তব্য দেন এম রেজাউল করিম চৌধুরী। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধ শক্তির কবর রচনা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকির প্রতিবাদে অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রেজাউল বলেন, এরা শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে নয়, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত এমনকি বাংলাদেশের নাম পরিবর্তনেরও কথা বলেছে। বঙ্গবন্ধু এদেশ স্বাধীন করেছে তাই তাদের চোখে তিনি অপরাধী। মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমরা নেত্রীর নেতৃত্বে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধ শক্তির চিরতরে কবর রচনা করবো। এদের বাংলাদেশে স্থান নেই।

তিনি বলেন, অনেক জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এদেরকে কোনো জায়গা দেওয়া চলবে না। এরা জাতশত্রু। এরা কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গ্রহণ করবে না। এরা কোনো ইসলামি দল নয়। এরা বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নগর যুবলীগের সদস্য নুরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, অপরাজেয় বাংলার সদস্য সচিব এইচ রহমান মিলু।

বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী বিরূপ মন্তব্য করছে। তারা জানে না, ভাস্কর্য কী জিনিস আর মূর্তি কী জিনিস। তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জাতির পিতার এসব ভাস্কর্য দেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে জানবে। নতুন প্রজন্ম যখন এসব ভাস্কর্য দেখবে, তখন তারা বঙ্গবন্ধুকে জানবে।  

তারা বলেন, ধর্ম ব্যবসায়ীরা আমাদের বাংলাদেশের সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে দিতে চায় না। সেজন্য তারা ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করে দেশে একটা অরাজকতা তৈরি করতে চায়। তারা জানে না, এ ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে। জঙ্গিবাদের ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে। হিংসা বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের জায়গা ইসলামে নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। অতীতেও ধর্মীয় শিক্ষাকে বিকৃত করে, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

মৌলবাদকে আর প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদীদের আস্ফালন দিন দিন বেড়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারা যে হুমকি দিয়েছে, এটি ভয়ঙ্কর। এর প্রতিবাদ না করলে অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব একদিন বিপন্ন হবে। মৌলবাদীদের চাপে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি ভাঙছে তারা। মৌলবাদীদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

সমাবেশে বক্তব্য দেন, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত তালুকদার, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এএনএম মিনহাজুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, টিভি জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, সুচিন্তা চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক জিনাত সোহানা চৌধুরী, নগর যুবলীগের সদস্য মেজবাহ চৌধুরী মোর্শেদ, হেলাল উদ্দীন, শাখাওয়াত হোসেন স্বপন, সাবেক সদস্য আসহাব চৌধুরী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিল প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলাল, মহানগর যুবলীগের সদস্য কাজী রাজেশ ইমরান, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা এমদাদুল হক রায়হান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমেন বড়ুয়া, উপ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগ সভাপতি নুরুন্নবী শাহেদ।

বাংলাদেশ সময়: ২০০২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২১, ২০২০
জেইউ/এমআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa